কিডনীর কাজ কি?

কিডনী  বা বৃক্ক আমাদের শরীরের একটি  গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। এটা আমার রেচনতন্ত্রের প্রধান নিয়ন্ত্রক। এরা সংখ্যায় ২টি, শীমের বীচের ন্যায় আকৃতি এবং যার অবস্থান পিঠের দুপাশে।

কিডনী  আমাদের শরীরের ছাঁকনি স্বরুপ, যা শরীরের অতিরিক্ত পানি, বর্জ্য ও দূষিত বস্তু বের করে দেয় এবং মূত্র উৎপন্ন করে। আমাদের শরীরের রক্ত কিডনী র মাধ্যমে পরিশোধিত হয়। একজন সুস্থ্য মানুষের কিডনী দৈনিক প্রায় ১৮০ লিটার রক্ত পরিশোধন করে। আমাদের দেহের রক্ত কিডনী তে প্রায় ৪০ বার প্রবাহিত হয়। কিডনী  ইরোথ্রোপোরেটিন নামক হরমোন ক্ষরণ  করে যা লোহিত রক্ত কণিকা তৈরি করে। এছাড়া কিডনী  দেহের বিভিন্ন প্রকার  লবণের ভারসাম্য রক্ষা করে এবং  ও PH নিয়ন্ত্রণ করে। 

কিডনী রোগের উপসর্গ

কিডনী  রোগকে ‘সাইলেন্ট কিলার’ বলা হয়। অনেক কিডনী  রোগী রয়েছেন যারা ভিতরে ভিতরে খুব খারাপভাবে কিডনী  রোগে আক্রান্ত কিন্তু বাইরে থেকে বুঝা যায় না। অনেকের ছোট বয়সে কিডনী  দুর্বল হয়ে যায় কিন্তু ধরা পড়ে অনেক বছর বয়সে। যদিও কিডনী  সমস্যার উপসর্গ সব সময় দেখা যায় না তারপরেও কিছু উপসর্গ রয়েছে যে গুলো কিডনী  খারাপের দিক নির্দেশ করে

  • ক্লান্তি বা অবসাদ
  • ক্ষুধামন্দা ও বমি বমি ভাব
  • পিঠ ব্যথা
  • বার বার প্রস্রাব করা, বিশেষ করে রাতে বেশি 
  • প্রস্রাব কম বা বেশি  হওয়া
  • শ্বাস কষ্ট  ও অল্পতে হাপিয়ে উঠা
  • প্রস্রাবে জ্বালা পোড়া ও রক্ত বা পূজ বের হওয়া
  • চোখ, মুখ ও পায়ের গোড়ালি ফুলে যাওয়া
  • পেট ও কোমড়ে ব্যথা 
  • রক্তশূন্যতার কারণে রঙ ফ্যাকাসে হয়ে যাওয়া
  • ত্বকে র‍্যাশ বা চুলকানি 

কিডনী রোগের প্রকারভেদ 

বর্তমান সময়ে  কিডনী  রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়ে ই চলছে এবং সব বয়সের মানুষের ই এই কিডনী  রোগ হতে পারে। কিডনী  ফাউন্ডেশন ও বঙ্গবন্ধু মেডিকেল এর জরিপে বলা হয় বাংলাদেশে প্রায় প্রতি সাতজনে একজন কিডনী  রোগে আক্রান্ত, যা খুবই ভয়াবহ অবস্থা নির্দেশ করে।

যে সমস্ত রোগে মানুষের প্রাণনাশের ঝুঁকি রয়েছে তার মধ্যে এই কিডনী রোগে  আক্রান্তদের ঝুকি কোন অংশে কম নয়।

কিডনী  রোগ দুই ধরনের হয়ে থাকে। যথা –

  • একিউট কিডনী  ইনিজুরি বা AKI : একজন মানুষের সুস্থ্য কিডনী  হঠাৎ করে তার সামান্য পরিমাণ কার্যক্ষমতা  হারিয়ে ফেলাকে একিউট কিডনী ইনজুরি বলে। এই অবস্থায় রোগীর সঠিক সময়ে যথাযথ চিকিৎসায় কিডনী  পূর্বের ন্যায় সচল হয়ে যায়। কিন্তু বিনা চিকিৎসায় এর রুপ খারাপ হতে থাকে এবং ক্রমে দীর্ঘস্থায়ী হয়ে যায়। তিনমাসের মধ্যে এই সমস্যার সমাধান না হলে এটি ক্রনিক কিডনী  ডিজিজে রুপ নেয়। 
  • ক্রনিক কিডনী  ডিজিজ বা CKD: কিডনী  রোগের মধ্যে এটি ভয়াবহ এবং মৃত্যুর কারণ হিসেবে বিশেষ ভাবে দায়ী। এটা কিডনী  রোগের দীর্ঘস্থায়ী অবস্থা এবং পুরোপুরি সুস্থ্য হয় না। বর্তমানে এটি মারাত্নক আকার ধারণ করেছে। ভিতরে ভিতরে অনেক দিন যাবৎ এই রোগ দানা বাধঁতে থাকে এবং পরবর্তীতে স্থায়ী ভাবে কিডনী  তার কার্যক্ষম ক্ষমতা হারিয়ে ফেলতে পারে। 

একিউট কিডনী  ইনজুরির কারণ:

এই কিডনী  ডিজিজের কারণ গুলো নিম্নরুপ হতে পারে–

  • অতিরিক্ত পাতলা পায়খানা ও বমির ফলে শরীর থেকে পানি বেরিয়ে যায় ফলে অল্প সময়ের জন্য কিডনী  তার কাজ বন্ধ করে দিতে পারে। 
  • ব্লাড প্রেসার নেমে গেলেও কিডনী র এই একিউট কিডনী  ইনিজুরি হতে পারে।
  • গর্ভাবস্থায় মহিলাদের বিভিন্ন জটিলতা দেখা দিতে পারে, ফলে এই রোগ হতে পারে। 
  • সাপের কামড়ে রক্তে বিষাক্ত পদার্থের উপস্থিতির কারণে এটি হয়ে থাকে। 
  •  আবার কোন কোন ক্ষেত্রে ঔষধের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ার ফলে হয়ে থাকে। 
  • মূত্রথলি, মূত্রনালীর ইনফেকশন কিডনী কে প্রভাবিত করলে  এটি হয়ে থাকে। 

ক্রনিক কিডনী  ডিজিজের কারণ

যদিও এই দীর্ঘস্থায়ী মন্থর গতির কিডনী  রোগের সঠিক কারণ জানা যায় না , তবুও কিডনী   বিশেষজ্ঞরা এর কিছু কারণ দেখিয়েছেন যেগুলো নিচে দেওয়া হলো–

  • ডায়বেটিস হলো কিডনী কে ধীরে ধীরে নষ্ট করার অন্যতম হাতিয়ার। উচ্চ মাত্রার ডায়বেটিস কিডনীর ফাংশন গুলো দুর্বল করে দেয়। ডায়বেটিসে যেহেতু রক্তের সুগার বেড়ে যায়, তাই কিডনী র ছাঁকিনিতে প্রেসার পড়ে। আবার ডায়বেটিসের জন্য ইউরিনের সাথে দীর্ঘ দিন ধরে  প্রোটিন বের হয়ে যাওয়ার কারণে কিডনী র এই দীর্ঘস্থায়ী রোগ হয়ে থাকে। উচ্চ মাত্রায় ডায়বেটিসে ব্যক্তির প্রতি তিনজনে একজন এই ক্রনিক কিডনী  ডিজিজে আক্রান্ত হয়ে থাকেন বলে একটি হাসপাতাল জরিপে বলা হয়েছে।  
  • উচ্চ রক্তচাপঃ ক্রনিক কিডনী  ডিজিজে আক্রান্ত রোগীর ইতিহাস হতে জানা যায় রোগী দীর্ঘদিন ধরে উচ্চ রক্তচাপে ভুগে থাকেন। উচ্চ রক্ত চাপের কারণে ধমনী সংকুচিত হয়ে যায় ফলে কিডনী  ধীরে ধীরে তার কার্যক্ষমতা হারাতে থাকে। 
  • কিডনী  রোগের আরেকটি কারণ হতে পারে গ্লোমেরুলোনেফ্রাটিস বা জি এন, এটি কিডনীর প্রদাহ জনিত রোগ, যা কিডনী র ফিল্টার নালীগুলোকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। 
  • আবার কোন সময় শিশুদের কিডনী  রোগ হয়ে থাকে। এ ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞরা  একে বংশগত হিসেবে ধরে থাকেন। জিনগত কারণে এই কিডনী  সমস্যাকে পলিসিস্টিক কিডনী  রোগ বলা হয় যা পিতা মাতার কাছ থেকে নব জাতক পেয়ে থাকে। কিডনী সমস্যায় আক্রান্ত রোগীর অনেকেই শিশু বয়স থেকে আক্রান্ত থাকেন, এই সম্পর্কে অনেকেরই ধারণা থাকে না বলে এই রোগ বয়স বাড়ার সাথে সাথে জটিল হতে থাকে এবং দীর্ঘ স্থায়ী রুপ ধারণ করে।
  • এই সমস্যার আরেকটি মারাত্নক কারণ হলো ব্যথানাশক ঔষধ  বা এন্টিবায়োটিক ঔষধ সেবন। অনেকেই না বুঝে , রোগের কারণ না জেনে ফার্মেসী থেকে ইচ্ছেমত ঔষধ খেয়ে থাকেন যা ক্রমাগত কিডনী  রোগের দিকে ধাবিত করে এবং শেষ পর্যন্ত কিডনী  পুরো বিকল হয়ে যায়।  
  • কিডনী তে পাথরঃ কিডনী তে পাথর হলে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ব্যবস্থা না নিলে এই ক্রনিক কিডনী  ডিজিজ হতে পারে। 
  • খাদ্যাভ্যাসঃ খাবারে অধিক লবণ ও চর্বির পরিমাণ এর কারণে কিডনীর মারাত্নক ক্ষতি হয়। তাছাড়া কম পানি পান করা বা অনেক সময় প্রস্রাব পায়খানার বেগ আটকে রাখলেও কিডনী  ক্ষতিগ্রস্ত হয়। 

কিডনী  রোগের চিকিৎসা 

রোগ খুবই মারাত্নক একটি রোগ এবং প্রাণ নাশক। তবে আশার কথা হলো  রোগের সঠিক চিকিৎসায় এটি থেকে আরোগ্য পাওয়া সম্ভব। 

উপরের লক্ষণ গুলো নিজের মধ্যে বা পরিবারের কারো মধ্যে দেখা দিলে অবশ্যই একজন কিডনী  বিশেষজ্ঞ দেখাতে হবে। এর চিকিৎসা হিসেবে রয়েছে মেডিসিন, নিয়ামুবর্তীতা, ডায়ালাইসিস এবং কিডনী পুনঃস্থাপন ইত্যাদি। চিকিৎসক গণ রোগের ধরণ ও তীব্রতার উপর ভিত্তি করে ব্যবস্থা দিয়ে থাকেন। 

রাজশাহীতে প এ অনেক স্বনাম ধন্য কিডনী বিশেষজ্ঞ ডাক্তার রয়েছেন যাদের কাছে আপনার কাঙ্খিত চিকিৎসা সেবা আপনি পাবেন। 

এখন আমরা  রাজশাহী’র কয়েকজন কিডনি বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের  ব্যাপারে জানবোঃ

১. ডাঃ মোঃ সাফায়েত হোসেন প্রামানিক

এমবিবিএস,বিসিএস (স্বাস্থ্য)
এমডি (নেফ্রোলজি)
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় ( পিজি হাসপাতাল) 
এমএসপি ( আমেরিকা) 
নেফ্রোলজিস্ট 
রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল।

২. ডাঃ. স্বপন কুমার সাহা

এমবিবিএস (ডিএমসি), এমডি (নেফ্রোলজী)
এমপিএইচ (ইপিডিমিওলজী)
রোগ ও মেডিসিন বিশেষজ্ঞ
সহযোগী অধ্যাপক
নেফ্রোলজী বিভাগ
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল।

৩. ডা: মো: নুরুল ইসলাম চৌধুরী

এমবিবিএস, এমডি(নেফ্রোলজী)
রোগ বিশেষজ্ঞ
সহকারী অধ্যাপক
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল

৪. ডাঃ মোঃ নাসির উদ্দিন

এমবিবিএস, এমডি (নেফ্রোলজি)
কিডনী  রোগ বিশেষজ্ঞ
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল

৫. ডা: এ.কে.এম মনোয়ারুল ইসলাম

এমবিবিএস, ডিসিএম, এমডি(নেফ্রোলজি), এফএসিপি(আমেরিকা)
কিডনি রোগ ও মেডিসিন বিশেষজ্ঞ
অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান
কিডনি রোগ বিভাগ, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল

৬. ডা: মোহা: সিদ্দিকুর রহমান সোহেল

এমবিবিএস, এমডি(নেফ্রোলজি)
কিডনি রোগ বিশেষজ্ঞ

৭. ডা: সামিনা শারমিন

এমবিবিএস, এমডি(নেফ্রোলজী), পিএইচডি(জাপান),
এএমসি গ্রাজুয়েশন(অস্ট্রেলিয়া)
কিডনী ও মেডিসিন বিশেষজ্ঞ
সহকারী অধ্যাপক
ইসলামী ব্যাংক মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল রাজশাহী

৮. ডাঃ মোঃ আব্দুল হাকিম

এমবিবিএস-বিসিএস(স্বাস্থ্য)
এফসিপিএস (মেডিসিন) এমডি(নেফ্রোলজি)
কিডনি রোগ ও মেডিসিন বিশেষজ্ঞ

৯. ডাঃ সামিরা খাতুন

এমবিবিএস, বিসিএস (স্বাস্থ্য), এমডি (নেফ্রোলজি)
কিডনি বিভাগ
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, রাজশাহী

রাজশাহীর যেকোনো বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের তথ্য, সিরিয়াল ও আমাদের সেবা পেতে যোগাযোগ করুন।: 01317823580


আপনার মতামত দিন!